জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টির প্রার্থী তিন ইউনিয়নেই পরাজিত

নির্বাচন রাজনীতি

রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গ হলেও সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একটিতেও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। একটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও অন্য দুটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নে ইকবাল হোসেন এবং সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নে সোহেল রানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আর চন্দনপাট ইউনিয়নে নৌকার মান বাঁচিয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনার রহমান। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম বেসরকারিভাবে এ ফল ঘোষণা করেন।

এদিকে সূক্ষ্মভাবে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সদ্যপুষ্করিণী ও চন্দনপাট ইউনিয়নের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। তাঁরা আবার ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে রংপুর নগরের সেন্ট্রাল রোডের জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে চন্দনপাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রুহুল আমিন বলেন, ‘কারচুপি করে আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সদর উপজেলায় এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিততে না পারায় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা জাতীয় পার্টির এক নেতার ভাষ্য, ইউপি নির্বাচনে হেরে যাওয়াটা দলের জন্য অনেক ক্ষতি হলো। কেননা, সারা দেশের মধ্যে জাতীয় পার্টির দল বলতে রংপুর। তাও আবার খোদ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নির্বাচন। তাই ভবিষ্যতে দলের কার্যক্রম ভালো না হলে টিকে থাকা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে উঠবে।

হরিদেবপুর ইউনিয়নে ঢোল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন ১১ হাজার ৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী মফিজুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতীকে ৫ হাজার ৭৯৬ ভোট পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় একরামুল হক পেয়েছেন ৪ হাজার ১৯১ ভোট।

ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকছেদুর রহমানকে মোকাবিলা করে জিতেছেন সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল রানা।

চন্দনপাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আমিনার রহমান নৌকা প্রতীকে ৫ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন লিটন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৭৮ ভোট।

আরো পড়ুনঃ ড. কামাল হোসেনকে ‘অসাংগঠনিক’ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার অনুরোধ

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *