শিক্ষা সঙ্কট কাটাতে পথ দেখাচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’

শিক্ষা সঙ্কট কাটাতে পথ দেখাচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’

শিক্ষা

শিক্ষা সঙ্কট কাটাতে পথ দেখাচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’: প্রাণঘাতী করোনা আঘাত হানার আগেই শুরু হয়েছিল সরকারের জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) ছয় মাসব্যাপী ডিপ্লোমা ডিগ্রীর পাঠদান কার্যক্রম। সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শুরু করেছিলেন প্রকাশ্য শ্রেণী শিক্ষাগ্রহণ কার্যক্রম। কিন্তু এরই মধ্যে করোনার ধাক্কায় বিচলিত সবাই। তাই বলে হাল ছাড়েননি কর্মকর্তারা।

|আরো খবর

প্রস্তুতি নিয়ে প্রায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই ক্লাস শুরু হয় অনলাইন প্লাটফর্মে। এমনকি গবেষণা রিপোর্ট উপস্থাপনেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারেনি প্রাণঘাতী করোনা। শেষ পর্যন্ত সফলতার সঙ্গেই শেষ হলো ডিপ্লোমা। তবে একটি বা দুটি নয়, এই মুহূর্তে অন্তত ১৩টি ‘প্রোগ্রাম’ অনলাইনে সফলভাবে সচল রাখা এ প্রতিষ্ঠান আগামী তিন মাসে পরিচালনা করবে ৩০টি কার্যক্রম। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে আর জানা যায়, তবে এনএপিডির মতো শতভাগ সফল না হলেও সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে এখন বহু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি তাদের শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় স্বাভাবিকভাবেই সচল রেখেছে। বেশ কিছু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রীতিমতো শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস সচল রেখেছে পুরোদমে। পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়লেও শ্রেণী শিক্ষা কার্যক্রম অনেক প্রতিষ্ঠানেই রয়েছে স্বাভাবিকের মতো।

শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে এখন জনপ্রিয় শব্দ হয়ে উঠেছে ‘ওয়েবিনার’ ‘জুম, গুগল মিট, মাইক্রোসফট টিম, গুগল ক্লাসরুম, সিসকোর ওয়েবেক্স, মেসেঞ্জার রুম, জিটসির মতো ভার্চুয়াল প্লাটফর্মগুলো। জীবধারাকে সচল রাখার বাস্তবতায় পৃথিবীর অন্য দেশের মতো বাংলাদেশের মানুষের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অপরিচিত থাকা এমন বহু শব্দ। ছোট্ট শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই কাছেই দৃশ্যমান এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ।শিক্ষা সঙ্কট কাটাতে পথ দেখাচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য প্রযুক্তির এসব বিষয়ে সুফলও পাচ্ছেন প্রতিটি মানুষ। তবে আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে হেঁটে চলেছি এটা তারই একটি সফলতার দিক। এ কথা নির্দিধায় বলা যায় ডিজিটাল বাংলাদেশে পথে অনেক দূর এগিয়েছি বলেই আজ তথ্য প্রযুক্তিসহ বহু দুর্বোধ্য জটিল বিষয় ও তার প্রয়োগ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছেও সহজ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে বলেছেন, করোনা বিপর্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর সুফল হাতেনাতে পাচ্ছে দেশের জনগণ। এই দুর্যোগে যখন তছনছ প্রায় সব খাত। যখন বিপর্যন্ত স্বাস্থ্য খাত, স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, তখন বাঁচার পথ দেখাচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি খাত। অসাধারণ ভূমিকা রাখছে আইসিটি খাত। অনলাইনেই চলছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া।

অনলাইনে ক্লাস নেয়ার বা ক্লাসে অংশ নেয়ার জন্য কয়েকটি মাধ্যম এখন প্রায় সমান জনপ্রিয়। শিক্ষায় আলোচিত প্লাটফর্ম ‘কোর্সেরা’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত কোটি শিক্ষার্থী-শিক্ষক এক হওয়ার সুযোগ পান কোর্সেরা প্লাটফর্মে। কোর্স ফি দিয়ে যে কেউ বিভিন্ন বিষয়ের নামী অধ্যাপকদের কোর্সে অংশ নিতে পারছেন, কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার পর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে ৪০০ বিষয়ে তিন হাজার ৮০০টি কোর্স বিনামূল্যে দিচ্ছে কোর্সেরা। আরেক ব্যবহৃত প্লাটফর্ম ‘জুম’। অধিকাংশ সময় অফিসের কাজে ব্যবহৃত হলেও চাইলে জুমকে বানিয়ে নেয়া যাচ্ছে ক্লাসরুম। বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও সামান্য কিছু টাকা খরচ করলে আরও আধুনিক সেবা দিতে পারে সফটওয়্যারটি। ১০০ জন একই সঙ্গে একই ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিতে পারছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *